গতকাল পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। আগামী ৩,৪,৬,৭,৯ আগষ্ট ম্যাচ গুলো অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবরে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, এখনও নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। কদিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে-

তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টি-টুয়েন্টির পারফরমেন্স অস্ট্রেলিয়াকে খুব ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে অ্যারন ফিঞ্চের দল। তাদের এমন পারফরম্যান্স স্পষ্ট বা‍র্তা দিয়েছে নামের ভারে পার পাওয়ার দিন বহু আগে ফেলে এসেছে তারা।

ডেভিড ওয়া‍র্নার, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল,মা‍র্কাস স্টয়নিস,প্যাট কামিন্স, কেন রিচা‍র্ডসন ও ঝাই রিচা‍র্ডসনের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার সিরিজকে করেছে দুঃসহময়। যদিও পরবর্তীতে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অজিরা। এবার সেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ।

এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে না তাদের সীমিত ওভারের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে। এই অস্ট্রেলিয়া দলকে অবশ্য দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ দলটিতে আছেন জশ ফিলিপে, মিচেল মার্শের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান। আর তাদের পেস আক্রমণের দায়িত্বে থাকবেন মিচেল স্টার্ক ও অ্যান্ড্রু টাইরা।

বাংলাদেশের মতো অস্ট্রেলিয়াও এক ঝাঁক স্পিনার নিয়ে দল সাজিয়েছে। স্কোয়াডে রাখা হয়েছে অ্যাডাম জাম্পা, অ্যাস্টন আগার মিচেল সোয়েপসনের মতো অভিজ্ঞ স্পিনার। গত বছর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না। এই সময়ের মধ্যে ১৯ ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়া ইততে পেরেছে কেবল ৭টি ম্যাচে।

এই ফর্ম দেখে বাংলাদেশ ভাবতেই পারে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এটাই সেরা সময় বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সবকটি ম্যাচই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এবারই সীমিত ওভারের সিরিজে অজিদের মোকাবেলা করছে টাইগাররা।

স্মিথ-ওয়ার্নাররা না থাকায় এই অস্ট্রেলিয়া এক কথায় অচেনা বাংলাদেশের কাছে। অস্ট্রেলিয়ার এই দলে নিয়মিত দুই ওপেনার ও‍‍য়া‍র্নার ও ফিঞ্চ নেই,টপ অ‍‍র্ডারে স্মিথ, মিডিল অ‍‍র্ডারে ম্যাক্সওয়েল এবং স্টয়নিক না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন অনেকটাই কঙ্কালসার।

এটাই বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে সুখবর। ওয়েস্টইন্ডিজ সফরে মিচেল মা‍র্শ ছাড়া ব্যাট হাতে কেউ রান করতে পারেননি। ৩ ফিফটিতে দেড়শোর উপর স্ট্রাইক রেটে সিরিজ স‍‍র্বোচ্চ ২১৯ রান করেছিলেন মার্শ। আর ম্যাথু ওয়েড, ফিলিপে ও অ্যালেক্স ক্যারি ক্যারিবীয় সফরে রান না পেলেও তাদের নিয়ে মাথা খাটাতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমন নিয়ে সন্দেহ তোলার সুযোগ নেই।

মিচেল স্টা‍র্ক, হ্যাজেলউডের সঙ্গে তরুণ বেশ কয়েকজন পেসার আছেন। সেই সঙ্গে স্পিনার হিসেবে আছেন অভিজ্ঞ আগার-জাম্পার মতো তারকারা। এর ফলে বোঝাই যাচ্ছে উইকেট যেমনই করা হোক স‍‍র্বোচ্চ চ্যালেঞ্জই থাকবে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের জন্য আরেকটা জিনিসও বিবেচনাতে রাখতে হবে বাংলাদেশ যতই জয়ের মধ্যে থাকুক, মনে রাখতে হবে তারা খেলে এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

আর সেখানেও সহজ পথ পাড়ি দেয়নি বাংলাদেশ। এই সিরিজে বাংলাদেশও তাদের পূ‍র্ণ শক্তির দলও পাচ্ছে না। তামিম ইকবাল,মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসের না থাকাটা ব্যাটিংয়ের গভীরতা কমিয়েছে অনেক। তাদের অনুপস্থিতি অবশ্য তরুনদের জন্য বড় সুযোগ।

নিজেদের প্রমাণ করে জয়গা করে নিতে পারেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও। ব্যাটস্যমানরা যদি স্টা‍র্ক, জাম্পাদের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন আর মুস্তাফিজ, তাসকিন, সাইফউদ্দিন, শরিফুলরা যদি অজি ব্যাটসম্যানদের সুনিদ‍ৃষ্ট পরিকল্পনায় আটকে দিতে পারেন তবেই হয়তো বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় সারির দল প্রমান করা।