সাত কোটি ফলোয়ারের মাইলফলক পার করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারে আর বিশ্বের আর কোনো রাজনৈতিক নেতা তার ধারে-কাছে নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ফলোয়ার সংখ্যা মোদির বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যার অর্ধেকেরও কম।

২০০৯ সালে প্রথমবার টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন মোদি। তখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। ২০১০ সালে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল এক লাখ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই লাফিয়ে বাড়ে সেই সংখ্যা। গত ৭ বছরে মোদি ছাপিয়ে গেলেন সকলকেই।

এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তায় নরেন্দ্র মোদি পোপ ফ্রান্সিসকেও পেছনে ফেললেন। পোপের ফলোয়ার ৫ কোটি ৩০ লক্ষ। প্রথম থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে মোদিকে। নিয়মিতই তিনি টুইট করেন। তার সরকারের যে কোনো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সম্পর্কেই টুইট করতে দেখা গিয়েছে তাকে।

তবে এখনো তার থেকে অনেক এগিয়ে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তবে তিনি বহুদিনই আর রাষ্ট্রপ্রধান নন। ফলে রাজনৈতিকভাবে তাকে আর শীর্ষনেতা ধরা হয় না। একইভাবে আরেক প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফলোয়ার ৯ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু তার টুইটার অ্যাকাউন্টও চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে ফলোয়ার সংখ্যার বিচারে মোদির ধারেকাছে নেই বিশ্বের কোনো সক্রিয় রাজনীতিবিদই। টুইটারে বাইডেনের ফলোয়ার ৩ কোটির একটু বেশি। তবে গত এপ্রিলে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে সমীক্ষায়। গত মে মাসে ভারতীয় সংস্থা ‘সিভোটার’ এবং মার্কিন সংস্থা ‘মর্নিং কনসাল্ট’-এর দু’টি সমীক্ষাই সেই দাবি করেছে।

দু’টি সমীক্ষাই দেখিয়েছিল, দেশের বহু মানুষই মোদির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে। গুজরাটের একটি ছোট শহরে ১৯৫০ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত।

নরেন্দ্র মোদিকে একাধিক সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘সাশ অফ কিং আব্দুল্লাজিজ’; রাশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান ‘দ্য অর্ডার অফ দ্য হোলি অ্যাপস্টেল অ্যান্ড্রু দ্য ফার্স্ট’;

প্যালেস্তাইনের ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্তাইন’; আফগানিস্তানের ‘আমির আব্দুল্লা খান’ পুরস্কার; সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর ‘জায়েদ মেডেল’; মালদ্বীপের ‘রুল অফ নিশান ইজুদ্দিন’ প্রভৃতি। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ সিওল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।