রবিউল ইসলাম, বয়স ৩০। জন্মের ১০ বছর বয়সে হঠাৎ অসুস্থতায় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তারপর থেকে আস্তে আস্তে শরীর শুকিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন স্থানীয় জেলা সদর থেকে শুরু করে বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, ফকির, হুজুরের সব ধরণের চিকিৎসা করায়।

কিন্তু কোন চিকিৎসাতেই সুস্থ্য হোননি রবিউল। এক পর্যায়ে দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে সে। শুধু তাই নয়, ঘরে থাকা আসবাপত্র ভাঙচুর করেন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য তাকে ওই জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘরে প্রায় ২৪ টি বছর শিকল বন্দী জীবনে পড়ে রয়েছেন।

বলছিলাম ফরিদপুরের এমনি এক ঘটনার কথা। রবিউলের বাড়ি জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের পশ্চিম চরবর্ণী গ্রামে। তিনি মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। রবিউলের বাবা পেশায় একজন অটো-ভ্যানচালক। রবিউলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রবিউল আমার বড় ছেলে।

ওর বর্তমান বয়স ৩০ বছর। ওর বয়স যখন ১০ বছর তখন হঠাৎ করে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ার মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। পরে কোন উপায় না পেয়ে কোমড়ে শিকল বেঁধে রেখেছি। তিনি আরও বলেন, ‘অভাবের সংসারে কেউ খোঁজ নেন না।

কয়েকদিন আগে উপজেলার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা সুমন রাফি খোঁজ পেয়ে কোরবানির মাংস, চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দেখতে এসেছিলেন। নগদ কিছু টাকাও দিয়েছেন। সুমন-রাফির কারণে এবার পরিবারের সবাই মিলে কোরবানির মাংস খেয়েছেন।

কষ্টের মধ্যেও এবারের কোরবানি ঈদ ভালো কেটেছে। তাকে আল্লাহ যেন অনেক ভালো রাখেন।’ রবিউলের ছোট ভাই ইানামুল হোসেন জানান, ‘আমি জন্মের পর থেকেই বড় ভাইয়ের এ অবস্থা দেখে আসছি। বর্তমানে ভাই যে ঘরে থাকে এখানে আমাদের মুদি দোকান, ঘর ছিল।

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের ধরে ঘরেই আমার ভাইটা এইভাবে পড়ে আছে। ঘরটিতে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। মাজায় ও পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা। সারাদিন শুধু হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। শরীরে কোনো কাপড়-চোপড়ও রাখে না।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ময়না ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান চু্ন্নু বলেন, রবিউল মানসিক ভারসাম্যহীন। দীর্ঘ প্রায় একযুগের বেশি তাকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে তারা সাহায্য সহযোগিতার জন্য কখনো আসেন না। তারপরও সামনে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা আসলে তাদের পরিবারে খোঁজ নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ্র বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহয়তা ও ৫ হাজার টাকা প্রদান করেছি। তিনি বলেন, তার বাবাকে রবিউলের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা হবে।